সমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪, সময় : ০৮:৪১ pm
এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক :
হাইকমান্ডের নির্দেশে অবশেষে ডিগবাজি দিলেন বিএনপি নেতা সাহিদ হাসান। আসন্ন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি মেয়রপ্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে চমক দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। এ নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে ছিল তুমুল সমালোচনা। গণমাধ্যমেও তিনি বারবার প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দিলেন। সিটি নির্বাচনের প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দিয়ে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে বিবৃতিও পাঠিয়েছেন তিনি। এতে সাহিদ হাসান বলেছেন, ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে না। নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপির নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল।’
তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১০টি সংরক্ষিত আসনের বিপরীতে বিএনপির অন্তত ২২ জন কাউন্সিলরপ্রার্থী হতে চলেছেন। তাদের বেশির ভাগই নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। জমাও দিয়েছেন অনেকেই। দলের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই তারা নির্বাচনী মাঠে আছেন। দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের হুমকি দিয়েও বাগে আনতে পারছে না বিএনপি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা প্রসঙ্গে সাহিদ হাসান বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি। সবশেষ রাজশাহী মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ছিলাম। কিন্তু আমার মেয়রপ্রার্থী হওয়ার গুঞ্জনে বিএনপির কতিপয় নেতা আমার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদেরই যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে বিশেষ করে ঢাকা থেকে দলের হাইকমান্ড ফোন করে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। যেহেতু আমি জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন করি, কাজেই বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রেখেছি। আমি প্রার্থী হতে চাই না।’
রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বিএনপির মেয়রপ্রার্থী নিয়ে ভেতরে ভেতরে টেনশনে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তার ধারণা ছিল, বিএনপি শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে সাহিদকেই ব্যবহার করতে পারে। গণমাধ্যমে সাহিদ সরব হওয়ায় টেনশন বাড়ছিল লিটনের। কারণ রাজশাহীতে এখনো বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংক আছে। জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে এই ভোটব্যাংকই বড় ফ্যাক্টর। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরেও সাহিদ প্রার্থী হলে মেয়র পদে বিজয়ী হতে লিটনকে বেশ ঘাম ঝরাতে হতো। নির্বাচিত হওয়া তার জন্য এতটা সহজ হতো না। কারণ ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। ওই নির্বাচনে যুবদল নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে খায়রুজ্জামান লিটনের বিপরীতে ৭৮ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। জিততে না পারলেও আওয়ামী লীগের জন্য বড় মেসেজ ছিল এটি। এর প্রভাব পড়ে ২০১৩ সালের নির্বাচনে। এ নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটনকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। কাজেই এসব ভোটের অঙ্ক কষেই মাঠে এগোচ্ছিলেন লিটন। কিন্তু শেষমেশ সাহিদ রণভঙ্গ দেওয়ায় টেনশনমুক্ত হলেন মেয়র লিটন।
তবে এ প্রসঙ্গে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিএনপি জনগণকে ভয় পায়। এজন্য তারা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আসতে চায় না। রাজশাহীতে বিএনপির সেই সুদিনও ফুরিয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে যেসব উন্নয়ন হয়েছে তার সুফল পাচ্ছেন নগরবাসী। কাজেই মানুষ আর জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি চায় না। জনগণ সব সময়ই ভালোর সঙ্গে থাকতে চায়। তারা বোঝে কোথায় ভোট দিলে উন্নয়ন হবে। ভোটাররা এবারও সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন। তবে বিএনপি নির্বাচন বানচালে চোরাগুপ্তা কিছু করতে চাইলেও সফল হবে না। জবাব দেওয়ার জন্য জনগণই প্রস্তুত আছে।’
রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান টিটো বলেন, ‘আমি ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলাম। গত নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলাম। এবারও আমি মনোনয়নপত্র তুলেছি। তবে জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করব। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা আমার নেই।’ নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেলাল আহম্মেদ সবশেষ শাহ মখদুম থানা যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচন না করার জন্য দল থেকে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি বা চিঠি দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া কাউন্সিলর পদে কোনো দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় না। আমি বর্তমানে দলের কোনো পদেই নেই। ২০০২ সাল থেকে আমি কাউন্সিলর। বর্তমানে আমি আমার ওয়ার্ডবাসীর সেবা করা নিয়েই ব্যস্ত আছি। আমি মনোনয়নপত্র তুলেছি, ২৩ মের মধ্যেই তা জমা দেব।’
রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা আসন্ন সিটি নির্বাচনে অংশ নেবেন তাদের দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করব। এই তালিকায় দলের সাবেক নেতারাও বাদ যাবে না। এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া মানে দল ও দেশের জনগণের সঙ্গে বেইমানি করা। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এরপর প্রার্থীদের তালিকা দেখে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রা/অ