ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদেশে চাকরির প্রলোভনে মোহনপুরে অর্ধকোটি টাকার প্রতারণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহনপুর উপজেলাে বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নিউজিল্যান্ড, লাওস ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেশি আদায় করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানাতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে প্রণব কুমার সাহা জানান, প্রায় এক বছর আগে ভুট্টো মৃধা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি নিজেকে জাহানাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে জানান, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমানের মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারবেন।

পরে নিউজিল্যান্ডে পাঠানোর কথা বলে ১৪ লাখ টাকার চুক্তি করা হয় এবং চারজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে জানা যায়, দেওয়া কাগজপত্র ভুয়া। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার আরও অনেক মানুষ একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

অন্যদিকে লাওসে কাজের প্রলোভনে প্রায় ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মির্জাপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাদের ১২ জনকে ওই দেশে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে কোনো কাজ পাননি। পরে নানা দুর্ভোগের পর তারা দেশে ফিরে আসেন।

এছাড়া কম্বোডিয়ায় কাজের কথা বলে চার যুবকের কাছ থেকে ৩২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী সামিম পাঠান বলেন, পলাশ হোসেন নামের এক ব্যক্তি কম্পিউটার অপারেটরের চাকরির কথা বলে তাদের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা নেন। পরে তাদের টুরিস্ট ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে পৌঁছানোর পর স্থানীয় দালালদের কাছে তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং প্রায় ৮৭ দিন আটকে রেখে আরও ৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরে পরিবারের সহায়তায় টাকা পরিশোধ করে তারা দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

অভিযোগের বিষয়ে ভুট্টো মৃধা আংশিক দায় স্বীকার করে বলেন, তিনি ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মোহনপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার ঘটনায় দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়া, জাল কাগজপত্র তৈরি এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদেশে চাকরির প্রলোভনে মোহনপুরে অর্ধকোটি টাকার প্রতারণা

আপডেট সময় : ১০:২৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

মোহনপুর উপজেলাে বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নিউজিল্যান্ড, লাওস ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেশি আদায় করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানাতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে প্রণব কুমার সাহা জানান, প্রায় এক বছর আগে ভুট্টো মৃধা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি নিজেকে জাহানাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে জানান, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমানের মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারবেন।

পরে নিউজিল্যান্ডে পাঠানোর কথা বলে ১৪ লাখ টাকার চুক্তি করা হয় এবং চারজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে জানা যায়, দেওয়া কাগজপত্র ভুয়া। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার আরও অনেক মানুষ একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

অন্যদিকে লাওসে কাজের প্রলোভনে প্রায় ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মির্জাপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাদের ১২ জনকে ওই দেশে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে কোনো কাজ পাননি। পরে নানা দুর্ভোগের পর তারা দেশে ফিরে আসেন।

এছাড়া কম্বোডিয়ায় কাজের কথা বলে চার যুবকের কাছ থেকে ৩২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী সামিম পাঠান বলেন, পলাশ হোসেন নামের এক ব্যক্তি কম্পিউটার অপারেটরের চাকরির কথা বলে তাদের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা নেন। পরে তাদের টুরিস্ট ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে পৌঁছানোর পর স্থানীয় দালালদের কাছে তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং প্রায় ৮৭ দিন আটকে রেখে আরও ৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরে পরিবারের সহায়তায় টাকা পরিশোধ করে তারা দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

অভিযোগের বিষয়ে ভুট্টো মৃধা আংশিক দায় স্বীকার করে বলেন, তিনি ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মোহনপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার ঘটনায় দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়া, জাল কাগজপত্র তৈরি এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।