ঈদকে ঘিরে রাজশাহীর দর্জিপাড়ায় ব্যস্ততা, রাত জেগে চলছে পোশাক তৈরির কাজ
- আপডেট সময় : ১০:০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে Rajshahi নগরীর দর্জিপাড়ায় এখন চলছে টানা ব্যস্ততা। রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই পোশাক তৈরির অর্ডার নেওয়া শুরু হলেও ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কাজের চাপ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেলাই মেশিনের শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে টেইলার্স দোকানগুলো। কোথাও কোথাও সেহরি পর্যন্ত কাজ করছেন কারিগররা।
শুধু নগরী নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বাজারের ছোট-বড় টেইলার্স দোকানেও দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। নতুন কাপড় হাতে নিয়ে মাপ দিতে আসছেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও। সময়মতো পোশাক পাওয়া যাবে কি না—এই দুশ্চিন্তাও অনেকের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে দর্জিরা বলছেন, অর্ডারের চাপ সামলাতে অতিরিক্ত কারিগর নিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
টেইলার্স মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদে থ্রি-পিস, গাউন, কুর্তি, পাঞ্জাবি, পায়জামা, ফতুয়া, শেরওয়ানি এবং শিশুদের পোশাকের অর্ডার বেশি। বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে কাস্টমাইজড ডিজাইনের পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন থেকে বিভিন্ন ডিজাইন দেখে অনেকেই সেই অনুযায়ী পোশাক বানানোর অর্ডার দিচ্ছেন।
দর্জিরা জানান, আগে যেখানে একটি সাধারণ সালোয়ার-কামিজ তৈরি করতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগত, এখন নকশা, লেইস, হাতের কাজ ও ফিনিশিংয়ের কারণে সময় প্রায় দ্বিগুণ লাগছে। রানীবাজার এলাকার এক দর্জি জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি এ পেশায় রয়েছেন। প্রতি বছর ঈদের আগে ব্যস্ততা থাকে, তবে এবার অর্ডারের চাপ কিছুটা বেশি।
নগরীর সাহেববাজার কাপড়পট্টির একটি টেইলার্স দোকানের মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছরই কাজের চাপ থাকে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক তৈরি করি। ১০ রমজানের পর নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এখন হাতে থাকা অর্ডারগুলো সময়মতো ডেলিভারি দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, আগের তুলনায় মানুষ এখন পোশাকের ব্যাপারে বেশি সচেতন। রেডিমেড পোশাকের পাশাপাশি মাপ অনুযায়ী আরামদায়ক পোশাকের জন্য অনেকেই এখনও দর্জির ওপর নির্ভর করছেন। তবে কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক দোকান ইতোমধ্যে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক দোকানের সামনে ‘ঈদের অর্ডার বন্ধ’ লেখা নোটিশও দেখা গেছে।
কারিগররা জানান, রোজা রেখে দীর্ঘ সময় কাজ করায় তারা শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। রাত জেগে কাজ করাটা সহজ নয়, তবুও গ্রাহকদের সন্তুষ্টির কথা মাথায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় সেলাই খরচও বেড়েছে। আগে যেখানে একটি থ্রি-পিস সেলাই করতে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা লাগত, এখন তা বেড়ে ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাঞ্জাবি ও পায়জামার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
দর্জিরা বলছেন, কাপড়, সুতা, বোতাম, লেইসসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির কারণে সেলাই চার্জ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
নগরীতে কয়েকশ’ ছোট-বড় টেইলার্স দোকান রয়েছে। ঈদের মৌসুমে এসব দোকানে বাড়তি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়। অনেক শিক্ষার্থী ও বেকার যুবক অস্থায়ীভাবে কাজ করছেন—কেউ কাটিং সহকারী, কেউ বোতাম লাগানো বা ফিনিশিংয়ের কাজে যুক্ত। এতে তাদেরও কিছু অতিরিক্ত আয় হচ্ছে।



















