ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদ ঘনিয়ে আসতেই রাজশাহীতে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম বাড়তি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাজারে আবারও বাড়তির দিকে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে মুরগি ও গরুর মাংসের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় অনেকেই আগেভাগেই বাজার করছেন। ফলে মুরগির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়তে শুরু করেছে।

বিক্রেতারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে সোনালি মুরগি কেজি প্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩২০ টাকায়। দেশি মুরগির দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬৭০ টাকা কেজি। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে।

মুরগি বিক্রেতা রাহাত বলেন, প্রতি বছরই ঈদের কয়েকদিন আগে মুরগির দাম বাড়ে। তবে এবার পাইকারি বাজারে রমজানের দশ রোজার পর থেকেই দাম বাড়তে শুরু করেছে। ঈদের আগে চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুরগির পাশাপাশি গরুর মাংসের দামও বেড়েছে। বাজারে বর্তমানে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৩০ টাকা বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ ঘনিয়ে আসায় মাংসের চাহিদা বাড়ায় দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।

মুরগির দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতাকে মাছের বাজারে ভিড় করতে দেখা গেছে। আবার কেউ কেউ বেশি দাম শুনে মুরগি না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

কয়েকদিন আগে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা গেলেও বর্তমানে বাজারে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের তেলই পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংকটের সময় লিটারে চার থেকে সাত টাকা বাড়া দাম এখনো কমেনি।

এদিকে ঈদ সামনে রেখে সেমাই ও চিনির দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। বাজারে খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজি প্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই পাওয়া যাচ্ছে ৪৫ থেকে ৭০ টাকায়। এছাড়া সাধারণ মানের বাংলা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।

অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। চাহিদা কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে বর্তমানে কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে অনেক ক্রেতা এখন শপিং নিয়ে ব্যস্ত। আবার অনেকেই ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে শহর ছাড়ছেন। ফলে বাজারে সবজির ক্রেতা তুলনামূলক কমে গেছে।

সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, এখন বাজারে ক্রেতা কম থাকায় সবজির চাহিদাও কমেছে। তাই দাম কিছুটা কমেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদ ঘনিয়ে আসতেই রাজশাহীতে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম বাড়তি

আপডেট সময় : ১১:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাজারে আবারও বাড়তির দিকে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে মুরগি ও গরুর মাংসের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় অনেকেই আগেভাগেই বাজার করছেন। ফলে মুরগির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়তে শুরু করেছে।

বিক্রেতারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে সোনালি মুরগি কেজি প্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩২০ টাকায়। দেশি মুরগির দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬৭০ টাকা কেজি। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে।

মুরগি বিক্রেতা রাহাত বলেন, প্রতি বছরই ঈদের কয়েকদিন আগে মুরগির দাম বাড়ে। তবে এবার পাইকারি বাজারে রমজানের দশ রোজার পর থেকেই দাম বাড়তে শুরু করেছে। ঈদের আগে চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুরগির পাশাপাশি গরুর মাংসের দামও বেড়েছে। বাজারে বর্তমানে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৩০ টাকা বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ ঘনিয়ে আসায় মাংসের চাহিদা বাড়ায় দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।

মুরগির দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতাকে মাছের বাজারে ভিড় করতে দেখা গেছে। আবার কেউ কেউ বেশি দাম শুনে মুরগি না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

কয়েকদিন আগে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা গেলেও বর্তমানে বাজারে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের তেলই পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংকটের সময় লিটারে চার থেকে সাত টাকা বাড়া দাম এখনো কমেনি।

এদিকে ঈদ সামনে রেখে সেমাই ও চিনির দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। বাজারে খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজি প্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই পাওয়া যাচ্ছে ৪৫ থেকে ৭০ টাকায়। এছাড়া সাধারণ মানের বাংলা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।

অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। চাহিদা কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে বর্তমানে কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে অনেক ক্রেতা এখন শপিং নিয়ে ব্যস্ত। আবার অনেকেই ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে শহর ছাড়ছেন। ফলে বাজারে সবজির ক্রেতা তুলনামূলক কমে গেছে।

সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, এখন বাজারে ক্রেতা কম থাকায় সবজির চাহিদাও কমেছে। তাই দাম কিছুটা কমেছে।